মাম্প্‌স কি-মাম্পস এর লক্ষন ও করণীয়

 পোস্ট সূচিপত্রঃ   মাম্প্‌স কি - মাম্পস এর লক্ষন ও করণীয়

মাম্পস কেন হয়

মাম্পস এর লক্ষন

মাম্পস এর ঘরোয়া চিকিৎসা

মাম্পস এর ঘরোয়া চিকিৎসা

মাম্পস রোগীর খাবার

মাম্পস কতদিন থাকে

মাম্পস এর জটিলতা

মাম্পস হলে করণীয়

প্রতিরোধ


মাম্পস এর লক্ষন ও করণীয়


মাম্প্ কি?

মাম্প্ একটি ছোঁয়াচে রোগ, যা সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সংক্রামক উপাদান, যেমন মুখের লালা ইত্যাদির মাধ্যমে, ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি দিলে কিংবা সর্দি ঝাড়লে তার সূক্ষ্ম কণাগুলো বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে, এবং অন্য ব্যক্তির নাক, চোখ কিংবা মুখ দিয়ে ভিতরে গিয়ে সংক্রমণ ঘটায়।


 
 
 
 
মাম্পস কেন হয়

ভাইরাসঘটিত যন্ত্রণাদায়ক ছোঁয়াচে রোগ মাম্পস। দুই কানের নিচে চোয়ালের পেছনে অবস্থিত প্যারোটিড গ্রন্থি মাম্পস নামক ভাইরাস দিয়ে আক্রান্ত হলে সমস্যা দেখা দেয়। সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশি দিলে বা সর্দি ঝাড়লে তার সূক্ষ্ম কণাগুলো বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্য সুস্থ ব্যক্তির নাক, চোখ বা মুখ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে এই রোগের সংক্রমণ ঘটায়। ছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে খাবার পানীয় ভাগাভাগি করার মাধ্যমেও মাম্পস ছড়াতে পারে।

লক্ষণ

মাম্পস ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ১৪ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে প্রথমে জ্বর, মাথাব্যথা, গলাব্যথা এবং কানের নিচে ব্যথা নিয়ে রোগটির লক্ষণ শুরু হয়। শরীরের তাপমাত্রা কয়েক দিন পর্যন্ত ১০২ থেকে ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট থাকতে পারে। পরে একদিকের প্যারোটিড গ্রন্থি ফুলে ওঠে ব্যথা হয়। আরও পরে অপর পাশের গ্রন্থিটিও ব্যথা হয়ে ফুলে ওঠে। তবে মাম্পসের সঙ্গে সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন না থাকলে সাধারণত কোনো পুঁজ তৈরি হয় না। সময় রোগী অস্বস্তি অনুভব করে ভালো করে মুখ খুলতে পারে না। সেই সঙ্গে মুখে দুর্গন্ধ, চোয়াল শক্ত হয়ে যাওয়া এবং ঢোক গিলতে খেতে কষ্ট হয়। ঘাড়, কান কিংবা গলাও আক্রান্ত হয়ে পড়ে রোগে।

করণীয়

সাধারণত মাম্পস নিজে নিজেই সেরে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। যেমন এনকেফেলাইটিস, শ্রবণশক্তিতে সমস্যা, অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ ইত্যাদি। গর্ভবতী নারীর মাম্পস হলে থেকে গর্ভপাত হওয়ারও আশঙ্কা থাকে। রোগের আসলে নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। তাই উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন। সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হলে সেজন্য অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ প্রয়োগের প্রয়োজন হতে পারে। জ্বর ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল-জাতীয় ওষুধ সিরাপ/ট্যাবলেট/সাপোজিটরি বয়স অনুসারে দেওয়া যেতে পারে। রোগীকে আলাদা ঘরে কমপক্ষে দুই থেকে তিন সপ্তাহ রাখা উচিত। রোগীর ব্যবহৃত কাপড়, জিনিসপত্র গরম পানি দিয়ে ভালো করে ধোয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি রোগীকে প্রচুর তরল খাবার পান করানোর ব্যবস্থা করতে হবে। তবে মিষ্টি পানীয় বা জুস ইত্যাদি না খাওয়ানোই ভালো। কারণ এগুলো লালাগ্রন্থিকে উদ্দীপ্ত করে ব্যথা আরও বাড়িয়ে দেয়। তরল বা আধা তরল নরম খাবার খেলেও ব্যথা কিছুটা কম হয়। ব্যথা কমানোর জন্য ফোলা জায়গার ওপর বরফ বা ঠা- সেঁক দেওয়া যেতে পারে।

বর্জনীয়

আক্রান্ত অবস্থায় রোগীর প্রচণ্ড জ্বর ঘাড় শক্ত হয়ে গেলে, নারীদের ক্ষেত্রে তলপেটে ব্যথা করলে পুরুষদের ক্ষেত্রে অণ্ডকোষে ব্যথা মাম্পসের জটিলতা নির্দেশ করে। ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ছোঁয়াচে বলে রোগ হলে শিশুকে খুব কাছ থেকে আদর করা বা চুমু দেওয়া ঠিক নয়। এতে রোগটি অন্য ব্যক্তির মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। রোগীকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং কবিরাজের কাছ থেকে কোনো ধরনের ঝাড়ফুঁক বা অপচিকিৎসা করানো যাবে না।


প্রতিকার

রোগের প্রতিকারে মাম্পস টিকা গ্রহণ করা নিরাপদ। টিকা সাধারণত এক বছরের ওপরের শিশুকে এককভাবে কিংবা অন্যান্য টিকা যেমন হাম বা রুবেলার টিকার সঙ্গে একসঙ্গে দেওয়া যায়।
 
 
মাম্পস এর লক্ষণ কি
 
মাম্পসের প্রধান লক্ষণ হলো এক পাশে প্যারোটিক লালাগ্রন্থি ফুলে যাওয়া। ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ শিশুর এভাবেই মাম্পস দেখা যায়। প্যারোটিড লালাগ্রন্থি ফোলার কারণে কানের সামনের ডান চোয়ালের উপরিভাগের অংশটি থাকে ফোলা, যা কখনো কখনো কানের লতিকে পেছনের দিকে ঠেলে রাখে। শিশুর খাবার গিলতে চিবোতে সমস্যা দেখা দেয়।
 

মাম্পস এর ঘরোয়া চিকিৎসা

মাম্পসের কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই  বেশিরভাগ লোক 3 থেকে 10 দিনের মধ্যে পুনরুদ্ধার করে। পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে এবং লক্ষণগুলি কমাতে আপনি যে পদক্ষেপগুলি নিতে পারেন তার মধ্যে রয়েছে: বিশ্রাম।
 
. আদা: এতে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টিভাইরাল প্রপাটিজ থাকায় মামসের যন্ত্রণা কমাতে দারুন কাজে আসে। আদার মূল গুঁড়ো করে লাগান। দেখবেন সঙ্গে সঙ্গে যন্ত্রণা কমে যাবে। ইচ্ছা হলে আদা খেতে পারেন। তাতেও সমান কাজ দেবে।
. হরিতোকি: জলের সঙ্গে হরিতকি গুঁড়ো মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে ফেলুন। তারপর গলার যে অংশ ফুলে গেছে সেখানে লাগান। দেখবেন আরাম পাবেন। হরিতকিতে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান থাকার কারণেই মামসের প্রকোপ কমাতে এটি এত ভালো কাজ দেয়।
. অ্যালো ভেরা: শুধু মামসের যন্ত্রণা নয়, যে কোনও ধরনের প্রদাহ কমাতেই অ্যালো ভেরার কোনও বিকল্প নেই। কীভাবে ব্য়বহার করতে হবে এটি? প্রথমে অ্যালোভেরা জেলটা সংগ্রহ করুন। তারপর তাতে অল্প করে হলুদ মিশিয়ে গলায় লাগান। দেখবেন কেমন ঝট করে যন্ত্রণা কমে যাবে।
. গোলমরিচ: জলের সঙ্গে গোলমরিচের পাউডার মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে ফেলুন। এবার সেটি যন্ত্রণা যেখানে যেখানে হচ্ছে সেখানে লাগালে অল্প দিনেই রোগ সেরে যাবে।
. অশ্বত্থ পাতা: মামসের যন্ত্রণা কমাতে এটি দারুন কাজে দেয়। ঘিয়ের সঙ্গে অশ্বত্থ গাছের পাতা মেশান। তারপর ঘিটা গরম করে পাতাটা যন্ত্রণার জায়গায় রাখুন। দেখবেন ভালো ফল পাবেন। প্রসঙ্গত, রাতে শুতে যাওয়ার আগে এটা করবেন।
. শতমূলী: সম পরিমাণে শতমূলী বীজ এবং মেথি-গাছের বীজ নিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে ফেলুন। তারপর সেটি ফোলা জায়গায় লাগান। যন্ত্রণা কমে যাবে।
. ডুমুর পাতা: ঘি বা তেলে কয়েকটি ডুমুর পাতা ঢুবিয়ে গরম করে নিন। তারপর পাতাগুলি গলার ফোলা জায়গায় ৩০ মিনিট রাখুন। এমনটা প্রতিদিন করলে অল্প দিনেই যন্ত্রণা দূরে পালাবে।


মাম্পস রোগীর খাবার

মাম্পস হলে প্রচুর পানি খেতে হবে। মিষ্টি পানীয় বা জুস ইত্যাদি না খাওয়াই ভালো। কারণ এগুলো লালাগ্রন্থিকে উদ্দীপ্ত করে ব্যথা বাড়াবে। তরল বা আধা তরল নরম খাবার খেলে ব্যথা কম হবে।


মাম্পস কতদিন থাকে

প্যারোটিড লালাগ্রন্থি ফোলার কারণে কানের সামনের ডান চোয়ালের উপরিভাগের অংশটি থাকে ফোলা, যা কখনো কখনো কানের লতিকে পেছনের দিকে ঠেলে রাখে। শিশুর খাবার গিলতে চিবোতে সমস্যা দেখা দেয়। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অন্য পাশের প্যারোটিড গ্ল্যান্ডও ফোলে। পরে ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে লালাগ্রন্থি ফোলা কমে আসে।


মাম্পস এর জটিলতা

মাম্পস বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নিজ থেকেই ভালো হয়ে যায়। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে মাম্পস যদি বয়ঃসন্ধির পর হয়, মানে ১২ থেকে ১৯ বছর এই সময়ে হলে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ছেলেশিশুর অণ্ডকোষ আক্রান্ত হতে পারে। ক্ষেত্রে একটি বা দুই অণ্ডকোষে আক্রান্ত হতে পারে, যা থেকে পরে আরও জটিলতার আশঙ্কা থাকে। ছাড়া মেয়েদের ক্ষেত্রে ডিম্বাশয় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মাম্পস থেকে মস্তিষ্কে প্রদাহ পর্যন্ত হতে পারে।


মাম্পস হলে করণীয়
 
এটা ভাইরাসের দ্বারা সৃষ্টি হওয়ায় অ্যান্টিবায়োটিকস কোনো কাজ করে না। যতক্ষণ শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে ততক্ষণ চিকিৎসাটি উপশমক উপসর্গগুলির উপর মনোযোগ দেয়।
অস্বস্তিতে আরাম দিতে স্তরগুলি অনুসরণ করুন- সংক্রমণের ছড়ানো প্রতিরোধ করতে অন্যদের থেকে আলাদা থাকা; জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল; ফোলার জন্য ইবুপ্রোফেন; ফোলার জন্য গরম অথবা ঠান্ডা সেঁক; সেইসব খাবার এড়িয়ে চলুন যেগুলি চিবানোর প্রয়োজন; নরম খাবার খেলে ভাল হয়; প্রচুর পরিমাণে তরল গ্রহণ করুন।
 

প্রতিরোধ
মেসেলস, মাম্পস, রুবেল্লার (এমএমআর) টীকার পরামর্শ দেওয়া হয়। সিডিসির পরামর্শ অনুসারে, সমস্ত শিশুকে দুই ডোস এমএমআর টীকা লাগানো উচিত, প্রথমটা ১৫ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয়টা - বছর বয়সে। মার থেকে শিশুর শরীরে আসা অ্যান্টিবডিস থেকে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের জন্য এটা জন্মের পরে ২৮ দিনে দেওয়া হয়।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url