ধবল বা শ্বেতী রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার


ধবল বা শ্বেতী কোন ছোঁয়াচে রোগ নয়। নারী কিংবা পুরুষ যে কোন বয়সে এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। সাধারণত শরীরে যেসব অংগ আবরণ মুক্ত থাকে যেমন হাত পা মুখমন্ডল অর্থ ইত্যাদি অংশে এই রোগ দেখা যায়। এ রোগের সুনির্দিষ্ট কোন কারণ এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। ধবল বা শ্বেতী রোগ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি জন্য ২৬ শে জুন বিশ্ব ভিটিলিগো দিবস পালন করা হয়।
ধবল বা শ্বেতী রোগের লক্ষণ-ঔষধ, ভালো করার উপায়
ধবল বা শ্বেতী ছোঁয়াচে রোগ না হলেও যে কোন ব্যক্তি যে কোন সময় এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। যদিও ধবল বা শ্বেতী রোগটি মরণবাদী কিংবা ঘাতক নয় তবুও এ রোগ একবার শরীরে বাসা বাঁধলে তা থেকে মুক্তি পাওয়া খুবই দুষ্কর ব্যাপার।

কোর্স সূচিপত্রঃ ধবল বা শ্বেতী রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

ধবল বা শ্বেতী রোগের কারণ

  • শরীরের কোন বিশেষ স্থানে ত্বকের রং উৎপাদনকারী কোষ বা মেলানোসাইট রোগাক্রান্ত হলে বা সংখ্যায় কমে গেলে অথবা মারা গেলে মেলানিন নামক ত্বকের রং তৈরি বন্ধ হয়ে যায় ফলে ওই নির্দিষ্ট স্থানে ত্বকের স্বাভাবিক রং না থেকে সাদা দাগ হয়ে থাকে সাধারণত তাকে আমরা ধবল বা শ্বেতী রোগ বলে থাকি। ধবল বা শ্বেতী কোন প্রাণঘাতী রোগ নয়।
  • সাধারণত বংশগত কারণে এ রোগ হয়ে থাকে আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে কয়েক প্রজন্ম পরেও এ রোগ দেখা দেয়।
  • শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি দেখা দিলে এ রোগ হতে পারে।
  • অনেক ক্ষেত্রে কপালে পড়ার শান্তি ঠিক থেকেও শ্বেতী রোগ হতে পারে।
  • দীর্ঘদিন ধরে প্লাস্টিক বা রবারের জুতা, ঘড়ি প্রভৃতি ব্যবহারের ফলে ও এ রোগ হতে পারে।
  • ব্যবহৃত প্রসাধনী সামগ্রীর কেমিক্যাল বা সিনথেটিক জাতীয় জিনিস থেকে এলার্জিক প্রতিক্রিয়ার ফলে ও এ রোগ হতে পারে।
  • রোদের তাপে পুড়ে যাওয়া অথবা মানসিক চাপ থেকেও এ রোগ হতে পারে।

ধবল বা শ্বেতী রোগের লক্ষণ

  • সাধারণত কোন ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ছাড়া শুধু রোগের লক্ষণ দেখে এ রোগ নির্ণয় করা যায়।
  • ত্বকের উপর সাদা সাদা দাগ পড়বে।
  • অল্প বয়সে মাথার চুল, চোখের পাপড়ি, ভ্রু অথবা দাড়ি ধূসর রংয়ের হয়ে যাবে।
  • মুখের ভিতর কনা গুলো বন্ধহীন হবে অথবা চোখের ভিতরে অংশ আংশিক পরিবর্তন হলে ধরে নিতে হবে ঐ ব্যক্তি এ রোগে আক্রান্ত।

ধবল বা শ্বেতী রোগের প্রতিকার

  • মেলানিন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষা করে কিন্তু শ্বেতী রোগীদের ত্বকের এই প্রটেকশন নেই বলে রোদে বের হওয়ার আগে ছাতা বা মোটা কাপড় পরে বের হতে হবে এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।
  • খাবার সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে ক্যাফিন, ডার্ক চকলেট, দুধ বা দুগ্ধজাপন্ন, গ্লুটেন, সাদা চিনি এবং সাইট্রাস ফলের মত কিছু সাধারণ খাবার শ্বেতী রোগকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। সুতরাং আপনি এই খাবারগুলো গ্রহণের পূর্বে পরীক্ষা করুন। এ খাবারগুলো আপনার রোগকে বাড়িয়ে তুলে কিনা এবং ক্ষতিকর হলে তা বর্জন করুন।
  • সরিষা তেল এবং হলুদের গুঁড়া মিশ্রণ বাইরের ত্বকের অংশে ১৫-২০ দিন প্রয়োগের ফলে এ রোগের কিছুটা হ্রাস পেতে সহায়তা করে।
  • পেঁপে, আখরোট শ্বেতী রোগ দূর করতে অনেকটা সহায়তা করে তাই আপনি তা খেতে পারেন এবং পেঁপের খোসার ভিতরের অংশ আক্রান্ত স্থানে ঘষতে পারেন।
  • পুদিনা পাতা, তুলসী পাতা পিষে তা লেবুর রসে মিশে পেস্ট করে আক্রান্ত স্থানে ঘসলে কয়েক দিনের মধ্যে কার্যকর ফল পাওয়া যায়।
  • ভিটামিন বি, ভিটামিন সি এবং অ্যামিনো এসিড সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর সুষম খাবার গ্রহণ করলে এ রোগের বিস্তার রোধ করা যায়।
  • বাদাম, বীজ, শাক, সবুজ সবজি, আয়রন ও দস্তা সমৃদ্ধ খাবার এবং তামা পাত্রে সংরক্ষণ করা পানি পান করে মেলানোসাইটের ঘাটতি কিছুটা পূরণ করা যায়।
  • সর্বোপরি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রেখে প্রচুর পরিমাণে পানি পান, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার গ্রহণ করলে তবেই নিয়ন্ত্রণে আসবে ধবল বা শ্বেতী রোগ।

ধবল বা শ্বেতী রোগের ঔষধ

  • বিভিন্ন মাত্রার করটিকো স্টেরয়েড জাতীয় মলম
  • কেলসিপট্রিন মলম
  • টেক্রলিমাস অথবা পাইমেক্রলিমাস মলম
  • মুখে খাবার স্টেরয়েড ট্যাবলেট
  • রিভফ্লাভিন ট্যাবলেট
  • ক্লোভেট
  • মেলাডিনিন
  • ভিটামিন বি জাতীয় খাদ্য
  • ছোলা বুট

উপসংহার

ধবল বা শ্বেতী রোগের চিকিৎসা সময় সাপেক্ষ। পুরোপুরি নাও সারতে পারে। দেহের লোমশ অংশের চিকিৎসা অনেকটাই সফল হয় কিন্তু যেসব জায়গায় লোম থাকে না যেমন আঙ্গুল, ঠোঁট ইত্যাদি চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে। অনেক সময় নিজে থেকেই সেরে যায়, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসা প্রয়োজন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মলম, থেরাপি ব্যবহার করা হয়। প্রয়োজনে ত্বক প্রতিস্থাপন করা হয়। তবে সব রোগীর চিকিৎসা পদ্ধতি এক রকম ফল দেয় না। রোগীর বয়স, রোগের স্থান এবং ইচ্ছা পদ্ধতি বাছাই করা হয়।এই আর্টিকেলটি সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে লেখা। তাই কোন কিছু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন এবং তা মেনে চলবেন।




Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url