আইফোন ১৫ সিরিজের দাম সহ সম্ভাব্য ফিচার্স

কোমর ব্যথার কারণ ও দ্রুত মুক্তির উপায় জানতে ক্লিক করুন


গতকাল অ্যাপল ইভেন্ট উন্মোচন করা হলো আইফোন ১৫, আইফোন ১৫ প্লাস, আইফোন ১৫ প্রো এবং আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স। এ ছাড়া ইনভেন্টে আইফোন ছাড়াও লাঞ্চ করা হয়েছে অ্যাপেল ওয়ার্চ সিরিজ নাইন, অ্যাপেল ওয়ার্চ আলট্রা টু। এই ইভেন্ট থেকে আমরা আইফোন ১৫ সিরিজের নতুন ফোনের যতোটুকু জানতে পেরেছি সেগুলো নিয়ে কথা বলব। এই ফোনটির সম্পর্কে কি কি থাকছে বিস্তারিত জানতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।
আইফোন ১৫ সিরিজের দাম সহ সম্ভাব্য ফিচার্স

বিশ্ব বিখ্যাত অ্যাপেলের স্মার্টফোন আইফোন সিরিজ। এই ফোনের জন্য প্রতীক্ষা করে বিশ্বের কোটি কোটি আইফোন প্রেমী ভক্তরা। তারা প্রতিটি সিরিজেই নতুন চমক নিয়ে আসে। এবারও তেমনটি আশা করছেন প্রতিটি আইফোন প্রেমীরা। আপনারা জানেন যে এই ফোনটি নিয়ে অনেক তোলপাড় ছিল এবং সেগুলো একদম পারফেক্ট ছিল।

সাইজ

আইফোন ১৫ এবং আইফোন ১৫ প্লাস নিয়ে কথা বলা যায় । মূলত: এই দুটো ফোন একই কিন্তু শুধুমাত্র সাইজের পার্থক্য রয়েছে। আইফোন ১৫ ডিসপ্লে সাইজ ৬.১ ইঞ্চি আর আইফোন ১৫ প্লাস ডিসপ্লে সাইজ ৬.৭ ইঞ্চি। আইফোন ১৫ প্রো ডিসপ্লে সাইজ ৬.১ ইঞ্চি আর আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স এর ডিসপ্লে সাইজ ৬.৭ ইঞ্চি।

ডিজাইন

ডিজাইনের ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাচ্ছি আগের ফোনের সিরিজে যে স্কয়ার ছিল তা থাকছে না এটা খানিকটা কার্ভড করা হয়েছে। সামনে এবং পিছনে দুই দিকেই কার্ভড থাকছে। সুতরাং ফোনটি ধরেই অনেকটা আরাম বোধ করবেন। তবে এক্সপেক্টেড এর বডিতে অ্যালুমিনিয়াম বডি থাকছে কোন ধরনের স্টেইনলেস স্টিল বা আইফোন ১৪ প্রোতে যেটা টাইটানিয়াম ব্যবহার করা হয়েছে সেই ম্যাটারিয়াল কিন্তু থাকছে না। আইফোন ১৫ সিরিজের সব মডেলের পাঞ্চ হোল ডিসপ্লে ডিজাইন থাকবে।

কালার

এই ফোনগেুলি মোট পাঁচটি কালার এ পাওয়া যাবে যার মধ্যে থাকছে ব্লাক,ব্লু , গ্রিন, ইয়োলো এবং নতুন একটি কালার ইন্ট্রিডিউস করা হয়েছে সেটা হচ্ছে পিংক, যা মেয়েদের জন্য খুবই পছন্দনীয় অর্থাৎ মেয়েদের জন্য একদম সুইটেবল কালার।

ব্রাইটনেস

ব্রাইটনেসের ক্ষেত্রে আইফোন ১৫ এবং আইফোন ১৫ প্লাসে আমরা পাচ্ছি ১০০০ নিটস (1000 nits) রেগুলার ব্রাইটনেস যার পিক বাইটনেস হচ্ছে ১৬০০ নিটস (1600 nits) এবং যখন আউটডোরে থাকবেন এই ডিসপ্লে পাওয়া যাবে ২০০০ নিটস (2000 nits) ব্রাইটনেস যা দেখতে খুবই সুন্দর হবে।কিন্তু একটা প্রো ফিচার স্ট্যান্ডআপের ক্ষেত্রে এখনো মিস প্রোমোশন ডিসপ্লে। এতে রেগুলার ৬০ হার্সের ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে যা আগের মতই।

ক্যামেরা

ক্যামেরা ক্ষেত্র আইফোন ১৫ সিরিজে আপডেট দেখতে পাচ্ছি। প্রাইমারি ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ৪৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা যেটা গতবছর শুধুমাত্র আইফোন ১৪ প্রো ফোনে ছিল। কম আলোতে ভালো ছবি তুলতে এতে সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে যা ৪৮ মেগাপিক্সেলের ছাড়াও ১২ মেগাপিক্সেল আল্ট্রা ওয়াইড লেন্স থাকছে। এটা যেহেতু বিগ সেন্সর সো ডেফিনেটলি ভালো কোয়ালিটির ছবি পাওয়া যাবে এবং ভালো বিষয় হচ্ছে আইফোন ১৫ এবং আইফোন ১৫ প্লাস সিরিজ ফোনে কিন্তু আলাদা ভাবে টেলি ফটো লেন্স নেই এতে শুধু দুটি ক্যামেরা থাকছে যার মধ্যে একটি প্রাইমারি এবং অন্যটি আলট্রা ওয়াইট। 
কিন্তু এটি যেহেতু বিগ এ্যাড সেন্সর সুতরাং ট্রপিকের মাধ্যমে 2x জুম করে ছবি তুলতে পারবেন যার কোয়ালিটি খুবই ভালো মানের হবে। এছাড়া প্রোটেট ছবির ক্ষেত্রে অ্যাপেল কিন্তু ভালোমতো ডেমোনেস্টেট করেছে। এতে খুব ভালো মানের ছবি পাওয়া যাবে এবং মজার বিষয় হচ্ছে যখন আপনি প্রোটেট ছবি তুলবেন আলাদাভাবে প্রোটেট ছবি তুলতে হবে না। রেগুলার ছবি তুলবেন যেটার ফোকাস এবং যেত প্রিরিজার্ভ থাকবে যা পরবর্তীতে কন্ট্রোল করতে পারবেন। প্রো ফিচার থাকছে না আইফোন ১৫ এবং আইফোন ১৫ প্লাসে প্রটেড ভিডিও করার অপশন থাকছেনা।
আরও পড়ুনঃ ডেঙ্গু জ্বরের কারণ ও প্রতিকার
তবে নতুন আইফোন ১৫ প্রো ও আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স এ ৪৮ মেগাপিক্সজেলের প্রাইমারী সেন্সর সহ ট্রিপল ক্যামেরা সেট থাকছে। পাশাপাশি ১৩.৪ মেগাপিক্সেলের আলট্রা ওয়াইড লেন্স এবং ১২.৭ মেগাপিক্সজেল টেলি ফটো ক্যামেরা সেন্সরও থাকছে। এতে একটি নতুন টেলি ফটো পেরিস্কোপ জুম সেন্সর দেওয়া হবে এই পেরিস্কোপ লেন্স ৫X থেকে ৬X অপটিক্যাল জুম ক্ষমতা অফার করবে যার দ্বারা ব্যবহারকারীরা আরও ডাইনামিক এবং উচ্চমানের ফটোগ্রাফি করতে সক্ষম হবেন। ফলে আগের মডেল থেকে এই মডেল হবে সম্পূর্ণ আলাদা।

চিফ

আইফোন ১৫ তে আল্ট্রা ফোনের বেস ভেরিয়েন্ট থাকবে ২৫৬ জিবি স্টোরেজ। যদিও এর আগের আইফোন ১৪ প্রোর বেস ভেরিয়েন্ট ছিল ১২৮ জিবি স্টরেজ। আইফোন ১৫ এবং আইফোন ১৫ প্লাসে চিফ হিসাবে আমরা পাচ্ছি গত বছরের আইফোন ১৪ প্রো ফোনে ব্যবহার করা এ ১৬ বায়োনিক চিফ। এ চিফের একটি ড্র ব্যাক থাকছে আইফোন ১৫ সিরিজে। ইউএসবি টাইপ সি ব্যবহার করা হয়েছে ফলে ডাটা কেবল এর মাধ্যমে চল্লিশ জিবিপিএস ডেটা ট্রান্সফার হতে পারে। সেটা বেসিকেলী ইউএসবি টাইপ ২ যা আগের মতই। সুতরাং বুঝতে পারছেন ইউএসবি টাইপ থ্রি সেটা কিন্তু শুধুমাত্র আইফোন ১৫ প্রো ও আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স এর জন্যই বরাদ্দ থাকছে।

অ্যাকশন বাটন

আইফোন ১৫ সিরিজের ডিসপ্লের ক্ষেত্রে একটি লিপ আপ দেখতে পাচ্ছি যেটা আমরা এক্সপেক্ট করছি ডাইনামিক আইল্যান্ড থাকছে যেটা গত বছর আইফোন ১৪ প্রোতে ছিল। কিন্তু আইফোন ১৪ তে ডাইনামিক আইল্যান্ড ছিল না বরং একটি বড় সাইজের নত ছিল এখন আইফোন ১৫ প্লাসে ডাইনামিক আইল্যান্ড সুবিধা পাবেন। পেরিস্কোপ এবং নতুন অ্যাকশন বাটন কন্ট্রোল থাকতে পারে আইফোন ১৫ সিরিজে। বর্তমান আইফোনে একটি মিউট বাটন থাকে কিন্তু আইফোন ১৫ সিরিজে সেই আগের মিউট বাটনটি সরিয়ে নতুন আপডেট অ্যাকশন বাটন থাকবে।

পরিবর্তন

আইফোন ১৫ ক্ষেত্রে বড় ধরনের ৩-৪টি পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে সেগুলো হচ্ছে বিল কোয়ালিটি, কানেক্টিভিটি, পারফরমেন্স, ক্যামেরা সেটআপ। আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স এর বিল কোয়ালিটি নিয়ে কথা বলতে গেলে প্রথমে আসে টাইটেনিয়াম ম্যাটারিয়াল এর কথা। আইফোন ১৪ সিরিজে ব্যবহার করা হতো স্টেইনলেস স্টিল যেটা খুবই ভালো মেটেরিয়াল। টাইটেনিয়াম স্টেইনলেস স্টিলের মতই টাফার একটি ম্যাটেরিয়াল। কিছু ক্ষেত্রে বলা যায় অ্যালুমিনিয়ামের ক্ষেত্রেও কিছুটা টাফ।

টাইটেনিয়াম ব্যবহার করার ফলে আইফোন প্রো সিরিজ দুটি সুবিধা পাচ্ছে একটি হচ্ছে অ্যালুমিনিয়াম থেকেও হালকা টাইটেনিয়াম। ফলে আইফোন প্রোর ওজন আগের থেকে কমে গেছে অর্থাৎ হালকা ওজন। আইফোন ১৪ প্রো ওজন ছিল ২০৬ গ্রাম সেখানে আইফোন ১৫ প্রো এর ওজন ১৮৭ গ্রাম যেটা আসলে ১৮-১৯ গ্রামের মত কম ওজন। আরেকটি সুবিধা হয়েছে ডিসপ্লের আশেপাশে যে ফ্রেমটা ছিল প্র্যাজেল সেটা আইফোন ১৫প্রো এবং আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্সের ক্ষেত্রে কমিয়ে আনা গেছে।

মূল্য

আইফোন ১৫ দাম ৭৯৯ ডলার থেকে শুরু। এবং আইফোন ১৫ প্লাসের দাম ৮৯৯ ডলার থেকে শুরু ক্ষেত্রে কোন পরিবর্তন নেই। প্রোর মূল্য শুরু হচ্ছে আইফোন ১৫ প্রো ৯৯৯ ডলার থেকে শুরু আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স ১১৯৯ ডলার থেকে শুরু। এটি ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে প্রি-অর্ডার করা যাবে এবং পাওয়া যাবে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে।

শেষ কথা

অ্যাপেলে বিখ্যাত আইফোন সিরিজটি কোটি কোটি ভক্তের প্রিয় ফোন এই ফোনটিতে নতুন নতুন ফিচার সংযুক্ত হলে সবাই যেমন আকৃষ্ট হয়। তেমনি বিশ্বের মোবাইল বাজারে তেমন তোলপাড় সৃষ্টি হয়। উপসংহারে আমরা তাই বলতে পারি মানুষের পছন্দের মোবাইলের জগতে আইফোন সিরিজটি প্রথম স্থান অধিকার করে থাকবে।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url